হরিওঁ
সমবেত উপাসনার প্রভাব ও মহিমা
অদ্য আকুবপুরে একটী অনাড়ম্বর সমবেত উপাসনা হইল।
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন, -
সমবেত উপাসনার দিনে অন্যান্য আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান না রাখাই ভাল।কারণ,আজ তোমরা ঠিক বুজিতে না পারলেও একদা স্পষ্টই অনুভব কর্ব্বে যে,ব'সে ব'সে কীর্ত্তন করারই এক ফল,পরিক্রমা করে কীর্ত্তনেরই আবার আরেক ফল।
একমাত্র নামাশ্রয় করে কীর্ত্তন করার আরেক ফল,ঈশ্বর মহিমা-সূচক বা লীলা-প্রকাশক নানা বাক্য-বিন্যাস করে কীর্ত্তনেরই আর এক ফল।
প্রত্যহ নিয়মিত একই সময়ে সুনির্দিষ্ট সময়ে কীর্ত্তন করার এক ফল,অনির্দিষ্ট ভাবে বা অবিরাম সুদীর্ঘকাল কীর্ত্তন করার আর এক ফল।
কীর্ত্তনের সঙ্গে ভক্তিভাবমূলক সঙ্গীত সংমিশ্রিত করে কীর্ত্তন করারই এক ফল,কীর্ত্তনের সহিত অন্য কোনও কিছুর মিশ্রণ না ঘটিয়ে শুদ্ধ নাম কীর্ত্তনেরই এক ফল।কীর্ত্তনেরই এক ফল,,স্বাধ্যায়েরই এক ফল।
প্রত্যেকটী কাজের মধ্যে সামান্য রকমারি করে করারই আর এক ফল।
সমবেত উপাসনার ফল তেমন একেবারে আলাদা।
তাকে তোমরা গান আর কীর্ত্তন,ভাষণ আর উপদেশ-দান, সভা-সমিতির অধিবেশন বা কার্য্য-বিবরণী পাঠের সহিত একত্র করে তালগোল পাকিয়ে ফেলো না।
তাহলেই একদিন তোমরা সমবেত উপাসনার বহু-দূর-প্রসারিণী অপার শক্তির ও অনির্ব্বনীয় প্রভাবের প্রত্যক্ষ পরিচয় নিজ নিজ জীবৎ-কালেই দেখে যেতে পারবে।
সমবেত উপাসনা মুখের ফুৎকারে নিবে যেতে বা ঝড়ের তাণ্ডবে লোপ পেয়ে যেতে আসে নি, এই কথাটী অন্তরের অন্তরে বিশ্বাস করো।
অপরাহ্ণ তিন ঘটিকায় স্থানীয় বিদ্যালয়ের হলে মহিলাদের একটী সভা হইলো।
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন, - আজ মহাষ্টমীর দিন।সারা দেশে ঘরে ঘরে পরমেশ্বরকে জগজ্জননী দুর্গা বলে করা হচ্ছে পূজা।
আজ আমি তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আমার ভয়হারিণী অভয়দায়িনী জগজ্জননী দশভুজাকে প্রত্যক্ষ করে তোমাদের পূজা কচ্ছি আমার ভাষণ-পুষ্পাঞ্জলিতে।
তোমরাই ভারতবর্ষের অতীত, প্রাচীন ঋষি উদাত্ত কন্ঠে তোমাদের মা বলে ডেকেছেন।
তোমরাই ভারতবর্ষের বর্ত্তমান, তোমাদের গর্ভে জন্মগ্রহণ করে,তোমাদের স্তন্য-পীযূষ পান করে আমরা জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছি মানুষকে সেবাদানের আশায়।
তোমরাই ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ, কেননা তোমরাই জন্ম দিবে এমন মানুষদের, যারা আকৃতিতে মানুষ, প্রকৃতিতে দেবতা এবং প্রত্যয়ে মহত্তম আদর্শের পূজারী।
তোমরা জগতে আছ বলেই আমরা দেশকে জননী বলে ভাবতে শিখেছি,বসুন্ধরাকে জগতের সকলের মাতা বলে পূজা কত্তে রুচিমান হয়েছি।
প্রকৃত মায়ের মত হয়ে তোমরা জগতের ভয় বিনাশ কর,তোমরা শুচি হও, শুদ্ধ হও,পবিত্র হও।
কামের ক্রীড়ানক না হয়ে তোমরা কামহারিণী মূর্ত্তি ধারণ করে জগদ্বাসী ভ্রান্ত পথিকদের তোমরা সত্য পথ-প্রদর্শনের দায়িত্ব গ্রহন কর।
বক্তৃতা দেড় ঘন্টা হইল।
মীরপুর(ত্রিপুরা)
১৯শে আশ্বিন, রবিবার ১৩৪২
(৬ই অক্টোবর,১৯৩৫)
সন্ধ্যা হইবার কিছু আগে শ্রীশ্রীবাবামণি মীরপুর নগেশ ব্রহ্মচারীর পৈতৃক বাসভবনে আসিয়া পৌছিয়াছেন
আসিয়া স্তূপীকৃত পত্রের উত্তর দিতে বসিলেন।
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
অখণ্ড সংহিতা বিংশখণ্ড হতে সংকলিত
সমবেত উপাসনার প্রভাব ও মহিমা
অদ্য আকুবপুরে একটী অনাড়ম্বর সমবেত উপাসনা হইল।
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন, -
সমবেত উপাসনার দিনে অন্যান্য আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান না রাখাই ভাল।কারণ,আজ তোমরা ঠিক বুজিতে না পারলেও একদা স্পষ্টই অনুভব কর্ব্বে যে,ব'সে ব'সে কীর্ত্তন করারই এক ফল,পরিক্রমা করে কীর্ত্তনেরই আবার আরেক ফল।
একমাত্র নামাশ্রয় করে কীর্ত্তন করার আরেক ফল,ঈশ্বর মহিমা-সূচক বা লীলা-প্রকাশক নানা বাক্য-বিন্যাস করে কীর্ত্তনেরই আর এক ফল।
প্রত্যহ নিয়মিত একই সময়ে সুনির্দিষ্ট সময়ে কীর্ত্তন করার এক ফল,অনির্দিষ্ট ভাবে বা অবিরাম সুদীর্ঘকাল কীর্ত্তন করার আর এক ফল।
কীর্ত্তনের সঙ্গে ভক্তিভাবমূলক সঙ্গীত সংমিশ্রিত করে কীর্ত্তন করারই এক ফল,কীর্ত্তনের সহিত অন্য কোনও কিছুর মিশ্রণ না ঘটিয়ে শুদ্ধ নাম কীর্ত্তনেরই এক ফল।কীর্ত্তনেরই এক ফল,,স্বাধ্যায়েরই এক ফল।
প্রত্যেকটী কাজের মধ্যে সামান্য রকমারি করে করারই আর এক ফল।
সমবেত উপাসনার ফল তেমন একেবারে আলাদা।
তাকে তোমরা গান আর কীর্ত্তন,ভাষণ আর উপদেশ-দান, সভা-সমিতির অধিবেশন বা কার্য্য-বিবরণী পাঠের সহিত একত্র করে তালগোল পাকিয়ে ফেলো না।
তাহলেই একদিন তোমরা সমবেত উপাসনার বহু-দূর-প্রসারিণী অপার শক্তির ও অনির্ব্বনীয় প্রভাবের প্রত্যক্ষ পরিচয় নিজ নিজ জীবৎ-কালেই দেখে যেতে পারবে।
সমবেত উপাসনা মুখের ফুৎকারে নিবে যেতে বা ঝড়ের তাণ্ডবে লোপ পেয়ে যেতে আসে নি, এই কথাটী অন্তরের অন্তরে বিশ্বাস করো।
অপরাহ্ণ তিন ঘটিকায় স্থানীয় বিদ্যালয়ের হলে মহিলাদের একটী সভা হইলো।
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন, - আজ মহাষ্টমীর দিন।সারা দেশে ঘরে ঘরে পরমেশ্বরকে জগজ্জননী দুর্গা বলে করা হচ্ছে পূজা।
আজ আমি তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আমার ভয়হারিণী অভয়দায়িনী জগজ্জননী দশভুজাকে প্রত্যক্ষ করে তোমাদের পূজা কচ্ছি আমার ভাষণ-পুষ্পাঞ্জলিতে।
তোমরাই ভারতবর্ষের অতীত, প্রাচীন ঋষি উদাত্ত কন্ঠে তোমাদের মা বলে ডেকেছেন।
তোমরাই ভারতবর্ষের বর্ত্তমান, তোমাদের গর্ভে জন্মগ্রহণ করে,তোমাদের স্তন্য-পীযূষ পান করে আমরা জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছি মানুষকে সেবাদানের আশায়।
তোমরাই ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ, কেননা তোমরাই জন্ম দিবে এমন মানুষদের, যারা আকৃতিতে মানুষ, প্রকৃতিতে দেবতা এবং প্রত্যয়ে মহত্তম আদর্শের পূজারী।
তোমরা জগতে আছ বলেই আমরা দেশকে জননী বলে ভাবতে শিখেছি,বসুন্ধরাকে জগতের সকলের মাতা বলে পূজা কত্তে রুচিমান হয়েছি।
প্রকৃত মায়ের মত হয়ে তোমরা জগতের ভয় বিনাশ কর,তোমরা শুচি হও, শুদ্ধ হও,পবিত্র হও।
কামের ক্রীড়ানক না হয়ে তোমরা কামহারিণী মূর্ত্তি ধারণ করে জগদ্বাসী ভ্রান্ত পথিকদের তোমরা সত্য পথ-প্রদর্শনের দায়িত্ব গ্রহন কর।
বক্তৃতা দেড় ঘন্টা হইল।
মীরপুর(ত্রিপুরা)
১৯শে আশ্বিন, রবিবার ১৩৪২
(৬ই অক্টোবর,১৯৩৫)
সন্ধ্যা হইবার কিছু আগে শ্রীশ্রীবাবামণি মীরপুর নগেশ ব্রহ্মচারীর পৈতৃক বাসভবনে আসিয়া পৌছিয়াছেন
আসিয়া স্তূপীকৃত পত্রের উত্তর দিতে বসিলেন।
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
অখণ্ড সংহিতা বিংশখণ্ড হতে সংকলিত
![]() |
| শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব |

Comments
Post a Comment