আলিঙ্গন



শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন,-
 আলিঙ্গন অতীব প্রগাঢ় আত্মীয়তা প্রকাশের একটা মুদ্রা বিশেষ। যখন মানুষ দুই থেকে আর সুখ পায় না,এক হতে চায়,তখম আলিঙ্গন-মুদ্রাটি আপনা আপনি শরীর মধ্যে প্রকাশ পায়।

 স্বাভাবিক ভাবে যা প্রকাশ পায়, তা' ত' অত্যুত্তম কিন্তু অস্বাভাবিক ভাবেও ত' এর প্রকাশ হতে পারে।
হরিনাম কত্তে কত্তে একজন লম্পট কোন পুরুষ বা নারীকে পাপবুদ্ধিতে আলিঙ্গন কর্ল্ল,এটাও ত' অসম্ভব নয়।

শিবাজী আর আফজল খাঁর আলিঙ্গন ত' সত্যিকার আলিঙ্গন নয়,বরং চূড়ান্ত জিঘাংসা।

শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু যাঁর মুখে হরিনাম শুনেছেন, তাঁকেই আলিঙ্গন দিয়েছেন। কিন্তু হরিনাম শুনে স্ত্রীলোককে আলিঙ্গন কত্তে উদ্যত হলে তাঁর প্রিয় পরিকর কি তাঁকে বাধার দিয়ে বলেন নি,-প্রভো, একি কাজ কচ্ছ?
শ্রী গৌরাঙ্গ নিজেকে সামলে নিলেন।

কীর্ত্তন কত্তে কত্তে পুরুষের পক্ষে স্ত্রীলোকের পক্ষে পুরুষেকে আলিঙ্গন করা যদি একটী গুরুতর কারণে নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, তবে গুরুতর সংক্রামক রোগগস্ত ব্যক্তিকে হরিনাম-কীর্ত্তন উপলক্ষে আলিঙ্গন করাতে বাধা দেওয়া দোষের হয় না।

প্রথমোক্ত দিকের বাধা দান হচ্ছে মনের স্বাস্থ্যের দিকে তাকিয়ে,শেষোক্ত বাধাদান হচ্ছে দেহের স্বাস্থ্যের দিকে চেয়ে।

আলিঙ্গন ব্যাপারটা প্রকৃত প্রস্তাবে প্রতীক হচ্ছে সর্ব্বাঙ্গিক মিলনের। এই মিলন অনেক সময়ে মনের দিক দিয়ে সর্ব্বাত্মক মিলনের সহায়তা করে বলেই আলিঙ্গন প্রচলিত এবং প্রশংসিত।
 কিন্তু যেখানে তার সম্ভাবনা না ঘটে অন্য রূপ প্রতিক্রিয়ার অপসম্ভাবনা থাকে,সেখানে আলিঙ্গন নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। তবে,কেবল বাইরে থেকে কে কার মনের খবর নেবে,যার যার মনের খবরদারি নিজেরই রাখা ভাল।

শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব 

Comments