পুত্র-কন্যারা পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ

হরিওঁ

পুত্র-কন্যারা পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ

 শ্রীশ্রীবাবামণি পত্র লিখিতে বসিয়া গেলেন। জলপাইগুড়ি জেলান্তর্গত দ্বারিকামারী-নিবাসী জনৈক পত্রলেখকের পত্রোত্তরে শ্রীশ্রীবাবামনি লিখিলেন,-

        "তোমার পুত্রকন্যারাই যে তোমার সবচেয়ে দামি সম্পদ, এই কথাটি নিমিষের জন্য ভুলিও না।
সম্পত্তি কিনিয়া বা ব্যাংকে টাকা জমাইয়া মানুষ কোন সম্পদে সমৃদ্ধ হয়?
 ঐ সম্পদ অতীব তুচ্ছ বস্তু।

      যাহার পুত্রকন্যা সৎপথে চলিল না, যাহার পুত্রকন্যা গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হইতে কোন চেষ্টা করিল না, যাহার পুত্রকন্যা কুসঙ্গে মিশিল,কুকার্য্য শিখিল,কুকথা কহিল,কদাচারে আসক্ত হইল, অতীত ও ভবিষ্যতের সকল গৌরবের  কথা ভুলিয়া গিয়া কেবল ইতর আমোদ আর লঘুচিত্ততার পরিতোষণের তরল সুখের গরল পান করিল, তাহার মতন হতভাগ্য জীব এই জগতে আর কে আছে?

          অবশ্য পুত্র-কন্যার শিক্ষাদানে ও যোগ্যতাবর্ধনে সর্বশান্ত হইবার পর এই সকল তথাকথিত শিক্ষিত পুত্রকন্যার পিতা-মাতার অসহায় বার্ধক্য যে অবহেলাময়ী বঞ্চনায় উৎপীড়িতও হইয়া থাকেন, এরুপ দৃষ্টান্ত বিরল নহে।

     পুত্র বা কন্যার নিকটে বিনিময়ে ভবিষ্যতে কিছুমাত্র সেবা ও হয়তো পাওয়া যাইবে না, এই সম্ভাবনাটি কে সম্পূর্ণরূপে স্বীকার করিয়া লইয়াই পিতা-মাতাকে
 পুত্র-কন্যার শিক্ষাদানে, চরিত্র-গঠন এবং সুপ্ত শক্তি ও প্রতিভার উন্মেষণে পরিশ্রম করিতে হইবে।

    সন্তান পিতা-মাতার প্রকৃতই সর্বস্ব ধন বলিয়াই তাহাদের জন্য পিতা-মাতাকে সর্বস্ব উৎসর্গ করিতে হইবে।"

 শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
[অখণ্ড সংহিতা বিংশ খন্ড হতে সংকলিত]

Comments