অখণ্ড সাধক ও দেবদেবীর পূজা
ত্রিপুরা জেলান্তর্গত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নিবাসী অপর এক পত্রলেখকের পত্রের উত্তরে শ্রীশ্রীবাবামণি লিখিলেন, -
" আমার নিকটে দীক্ষিত হইয়া তুমি নিজেকে অখণ্ড আখ্যায় সংজ্ঞাত করিতেছ। তাহার কারণ এই যে, তুমি আমার কাছ হইতে এমন মন্ত্র পাইয়াছ, যাহার ভিতরে সর্ব্বমন্ত্র,সর্ব্বসত্য,সর্ব্বতত্ত্ব বিরাজ করে।
এই জন্যই ভিন্ন ভিন্ন দেবতার পূজা তোমার পক্ষে নিরর্থক।
নানা নামে প্রচারিত ও পূজিত দেবগণ প্রত্যেকে যেই নাম জপিয়া পরমেশ্বরকে লাভ করিেয়া দেবতা হইলেন,তুমি সেই নাম পাইয়াছ। এই জন্যই একমাত্র নামব্রহ্ম অর্থাৎ ওঙ্কার-বিগ্রহ ব্যতীত অন্য কোনও বিগ্রহের পূজা করিবার তোমার প্রয়োজন নাই।
মনসার পূজা করিলে একটুকু পুন্য হয়,শীতলার পূজা করিলে আরও একটু পুন্য হয়,শনির পূজাতে আরও একটু পুন্য হইল,লক্ষ্মীপূজায় আরও একটু, সরস্বতী পূজায় পূন্য আরও বাড়িল, এভাবে পুন্য বাড়াইবার লালচে দেবতার পর দেবতা অর্চ্চিয়া অর্চ্চনাকারীরা নিষ্ঠা,একাগ্রতা ও বলশালিতা হইতে বিভ্রষ্ট হইয়া কেবলই অবক্ষয়ের পথে চলিয়াছে।
অথবা সর্পাঘাতের ভয়ে মনসা পূজা করিয়া,বসন্ত রোগের আতঙ্কে শীতলার পূজা করিয়া,গ্রহশান্তির আশায় শনির পূজা করিয়া,ধন লাভের লোভে লক্ষ্মীর পূজা করিয়া আর বিদ্যালাভের আগ্রহে সরস্বতীর পূজা করিয়া কেবল ভয় আর লালসারই চর্চ্চা মানুষেরা করিয়াছে।
এই পথ তোমাদের জন্য নহে।সব দেবতারই মন্ত্র আলাদা আলাদা কিন্তু সব মন্ত্র মিলিলে যা হয় এবং সব মন্ত্রের উৎপত্তি যাহা হইতে,তাহা হইতেছে অখণ্ড-মহানাম বা ওঙ্কার-প্রণব।
লোকের দেখাদেখি তোমরা বহু দেবতার পূজায় মনকে নিবিষ্ট করিও না।একমাত্র ওঙ্কার-মন্ত্রেই সমগ্র মনটাকে ঢালিয়া দাও।ইহাতেই তোমাদের সর্ব্বকল্যাণ লাভ হইবে।
তবে অপরের ধর্ম্মে-বিশ্বাসে বা ধর্ম্মীয় সংস্কারে আঘাত দিয়া কোনও কাজ করিও না বা কোনও বাক্যালাপ করিও না।নিজের মতে সুস্থির থাকিয়া এককে নিয়া খুশী থাক, বহু দিয়া তোমার কোন প্রয়োজন নাই।
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
অখণ্ড সংহিতা,
ঊনবিংশ খণ্ড.

Comments
Post a Comment