সাত্ত্বিক দান
অপর এক পত্র লেখকের পত্রের উত্তরে শ্রীশ্রীবাবামণি লিখিলেন -
আমি কোন স্থান হইতে দান স্বরূপে অর্থ পাইবার জন্য লালায়িত নহি। আমি চাই না যে তোমরাও কেহ আমার কাজের জন্য দান সংগ্রহে চেষ্টা কর।
জগতের অধিকাংশ লোকই অতীব জঘন্য জীবন যাপন করিতেছে। তাই তাহাদের সৎকার্য্যে দানের ইচ্ছা অতীব সীমিত।
আর,কোন প্রকার বিপদে-আপদে পড়িলেই তাহারা সঙ্কটত্রানের উদ্দেশ্যে দান করিয়া থাকে, সেই দান দেবতাকেই হোক বা হোক সাধু-সন্ত মহাত্মাকেই হউক।
স্বেচ্ছায় যে দান এবং সদপায়ের অর্জ্জিত অর্থের দ্বারা যে দান, তাই প্রকৃত দান।
এমন নিষ্কলঙ্ক দান ত' বাবা আপনা আপনিই আসিবে। তাহা সংগ্রহের জন্য তোমাদিগকে আবার চেষ্টা করিতে হইবে কেন?
অবশ্য, বলতে পার যে,সাত্ত্বিক দাতাদের অনেক সময়ে দিবার ইচ্ছা থাকে কিন্তু খেয়াল থাকে না। তাহাদিগকে স্মরণ করিয়ে দিতে বাধা কি?
এই বিষয়ে আমাকে নিরুত্তর থাকিতে হইবে।
এই মৌনতার অর্থ সম্মতি নহে,অসম্মতিও নহে।
কেহ কিছু আমার কাছে পাইল না অথচ আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করিয়া দান করিল, এই দানে বিভ্রাট আছে।
আমি দান গ্রহণ করিয়া যদি কাহারো আশার পূরণ না করতে পারি, তবে তো ঋণী হয়ে গেলাম।
এইসব চিন্তা আমাকে বড়ই বিব্রত করে বলিয়া আমি দান পাইবার আশা না করিয়াই কাজ করিয়া যাইতেছি।
দাতার দানের প্রতি উদাসীন থাকিয়াই আমাকে কাজ করিতে হইবে। কাজ দেখিয়া দান এদেশে খুব কম লোকই করে।
অনুরোধ আর উপরোধে পড়িয়াই ত' অধিকাংশ লোকে যা কিছু সৎকার্যের জন্য দিবার, দেয়।
এইসব দানকে সাত্ত্বিক বলিয়া মনে করিতে পারিতেছি না।
সন্তানকে দেখিলেই স্নেহবশে মায়ের যেমন স্তন হইতে অবিরল ধারে দুগ্ধ নিঃসৃত হইতে থাকে,
আমাকে দেখিলে ঠিক তেমনি যাহার হৃদয় কাঁদিয়া ওঠে এবং নিজের অজ্ঞাতসারে যা হস্ত ধন-ভাণ্ডারে গিয়া পড়ে এবং মুঠি ভরিয়া যাহা পায়, তাহা না দেয়া পর্যন্ত অস্বস্তি বোধ করে, আমি একমাত্র এমন দানকেই সাত্ত্বিক দান বলিয়া অভিহিত করিব।
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
অখণ্ড সংহিতা বিংশ খণ্ড হতে সংকলিত
অপর এক পত্র লেখকের পত্রের উত্তরে শ্রীশ্রীবাবামণি লিখিলেন -
আমি কোন স্থান হইতে দান স্বরূপে অর্থ পাইবার জন্য লালায়িত নহি। আমি চাই না যে তোমরাও কেহ আমার কাজের জন্য দান সংগ্রহে চেষ্টা কর।
জগতের অধিকাংশ লোকই অতীব জঘন্য জীবন যাপন করিতেছে। তাই তাহাদের সৎকার্য্যে দানের ইচ্ছা অতীব সীমিত।
আর,কোন প্রকার বিপদে-আপদে পড়িলেই তাহারা সঙ্কটত্রানের উদ্দেশ্যে দান করিয়া থাকে, সেই দান দেবতাকেই হোক বা হোক সাধু-সন্ত মহাত্মাকেই হউক।
স্বেচ্ছায় যে দান এবং সদপায়ের অর্জ্জিত অর্থের দ্বারা যে দান, তাই প্রকৃত দান।
এমন নিষ্কলঙ্ক দান ত' বাবা আপনা আপনিই আসিবে। তাহা সংগ্রহের জন্য তোমাদিগকে আবার চেষ্টা করিতে হইবে কেন?
অবশ্য, বলতে পার যে,সাত্ত্বিক দাতাদের অনেক সময়ে দিবার ইচ্ছা থাকে কিন্তু খেয়াল থাকে না। তাহাদিগকে স্মরণ করিয়ে দিতে বাধা কি?
এই বিষয়ে আমাকে নিরুত্তর থাকিতে হইবে।
এই মৌনতার অর্থ সম্মতি নহে,অসম্মতিও নহে।
কেহ কিছু আমার কাছে পাইল না অথচ আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করিয়া দান করিল, এই দানে বিভ্রাট আছে।
আমি দান গ্রহণ করিয়া যদি কাহারো আশার পূরণ না করতে পারি, তবে তো ঋণী হয়ে গেলাম।
এইসব চিন্তা আমাকে বড়ই বিব্রত করে বলিয়া আমি দান পাইবার আশা না করিয়াই কাজ করিয়া যাইতেছি।
দাতার দানের প্রতি উদাসীন থাকিয়াই আমাকে কাজ করিতে হইবে। কাজ দেখিয়া দান এদেশে খুব কম লোকই করে।
অনুরোধ আর উপরোধে পড়িয়াই ত' অধিকাংশ লোকে যা কিছু সৎকার্যের জন্য দিবার, দেয়।
এইসব দানকে সাত্ত্বিক বলিয়া মনে করিতে পারিতেছি না।
সন্তানকে দেখিলেই স্নেহবশে মায়ের যেমন স্তন হইতে অবিরল ধারে দুগ্ধ নিঃসৃত হইতে থাকে,
আমাকে দেখিলে ঠিক তেমনি যাহার হৃদয় কাঁদিয়া ওঠে এবং নিজের অজ্ঞাতসারে যা হস্ত ধন-ভাণ্ডারে গিয়া পড়ে এবং মুঠি ভরিয়া যাহা পায়, তাহা না দেয়া পর্যন্ত অস্বস্তি বোধ করে, আমি একমাত্র এমন দানকেই সাত্ত্বিক দান বলিয়া অভিহিত করিব।
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
অখণ্ড সংহিতা বিংশ খণ্ড হতে সংকলিত

Hari om
ReplyDelete