প্রত্যেকেই দেবত্বের অধিকারী হইতে পারে


প্রত্যেকেই দেবত্বের অধিকারী হইতে পারে

     চট্টগ্রাম জেলান্তর্গত ফটিকছড়ি-নিবাসী অপর এক পত্র লেখকের পত্রের উত্তরে শ্রীশ্রীবাবামণি  লিখিলেন, -
      "অনুন্নত শ্রেণীর লোকের ভিতরে কাজ করিতে হইলে ঠিক তেমনি প্রয়োজন ধৈর্য্যের ও ক্ষমার,উন্নত শ্রেণীর লোকের মধ্যে কাজ করিতে হইলে যেমন প্রয়োজন কৌশল ও বিদ্যাবত্তার।

   মানুষকে মানুষ-রূপে ধরিয়াই,অর্থাৎ তাহার ভিতরে দেবত্ব বিকাশের পূর্ণ সম্ভাবনা বিদ্যমান আছে,এই কথা স্বীকার করিয়াই তাহার প্রতি আমার কর্ত্তব্য আমি করিব কিন্তু আমার সহিত তাহার যাবতীয় যোগাযোগ যেন তাহার পক্ষে উৎকর্ষ-বিধায়ক হয়,ইহা দেখিতে হইবে।

   আমরা পাঁচ জনে মিলিয়া আনন্দোৎসব করি, ইহার নাম দেওয়া হইয়াছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু ইহার ফলে যদি আমাদের কাহারও উৎকর্ষ-বিধায়ক কোনও নব-সংস্কার সাধিত না হইল,তবে তাহা মিথ্যা হইয়া গেল।
     যাহাদিগকে অনুন্নত বলিয়া ভাবিয়াছ, তাহারা অনেক সময়ে অকারণেই এই অভিমান করিতে পারে যে,আমাদেরই ত্রুটির জন্য তাহারা অনুন্নত।
   এই অভিমান মিথ্যা অপবাদের উপরে স্থাপিত হইলে আমরা তাহাদের প্রকৃত সেবক হইতে কেবলই বাধা পাইব।
   একদল লোক ব্রাহ্মণ হইয়াছিল বলিয়াই অন্যেরা শূদ্র হইয়াছে,না একদল লোক শূদ্র বা অনুন্নত ছিল বলিয়াই অন্যেরা ব্রাহ্মণ হইয়াছে,এই কথাটার মীমাংসা আজও হয় নাই,ইহা স্মরণ রাখিতে হইবে।

     উচ্চ হউক,নীচ হউক, প্রত্যেকেরই মধ্যে দেবত্ব বিকাশের যে চেষ্টা, তারই নাম সংস্কার এবং তারই পুনঃ পুনঃ অনুশীলনের নাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

   আমরা যেন ছৌ-নাচ আর পাহাড়ী মাদলকেই দেবত্ব বিকাশের উপায় মনে না করি।

    আমরা যেন ত্যাগ ও তপস্যার দৌলতে মানুষের অবনতিকে প্রতিরুদ্ধ করিতে এবং অভ্যুদয়কে উদ্বুদ্ধ করিতে চেষ্টা করি। অসীম ধৈর্য্য ছাড়া এই বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না যে,জগতের প্রত্যেকেই দেবত্বের অধিকারী হইতে পারে।"

শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব 
[অখণ্ড সংহিতা,
ঊনবিংশ খণ্ড হতে সংকলিত ]



Comments